আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়, দলীয় নিষেধাজ্ঞা ও তৃণমূলের কোণঠাসা অবস্থা, সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে চরম অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ। এমন এক পটভূমিতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দলের উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ অঙ্গনে তৈরি করেছে নতুন কৌতুহল।
ভারতের গণমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারকে দীর্ঘ টেলিসাক্ষাৎকার দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, তারেক রহমান, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার উদ্যোগে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে সংগঠনের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করতে আগামী তিন মাসের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে একটি প্রস্তুতি কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনাকে ঘিরে একটি সংবাদ সম্মেলন সেই প্রক্রিয়ায় নতুন করে ধাক্কা দিয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন একটি দৃশ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একসময় যে দুই দল একই জোটে থেকে ক্ষমতা ভাগাভাগি করেছে, সেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আজ একই রাজনৈতিক পরিসরে থাকলেও তাদের অবস্থান আর আগের মতো সরল নয়। বরং ক্ষমতার পালাবদলের পর সম্পর্কটি দাঁড়িয়েছে সহযোগিতা, প্রতিযোগিতা এবং পারস্পরিক দূরত্বের এক জটিল সমীকরণে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে দিল্লির দ্রুত সিদ্ধান্ত দরকার। একই সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফর নিয়েও আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী সপ্তাহেই নয়াদিল্লি সফরে নিতে তোরজোর করছে ভারত। সফরের জন্য ২১ ও ২২ আগস্টের তারিখ প্রস্তাব করেছে নয়াদিল্লি। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত অভ্যন্তরীণ কর্মসূচির কারণে সেপ্টেম্বরের শুরুতে সফর হলে সেটি বেশি সুবিধাজনক হবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবার আলোচনার কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতির চেয়ার। গত ২৪ জুলাই ২০২৬ পদত্যাগ করেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, যিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন শেখ হাসিনার আমলে।
এক সময় যে ভবন ছিল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্র, সেটিই এখন পরিণত হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের প্রতীকী স্থাপনায়। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং উত্তেজনার ঘটনায় আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস রাজনীতি। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা এবং ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা ঘিরে সংঘটিত ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।