বিশ্বকাপ কি ধীরে ধীরে ফুটবলপ্রেমীদের হাতছাড়া হয়ে করপোরেট বিনিয়োগকারীদের সম্পদে পরিণত হতে যাচ্ছে? বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সাম্প্রতিক একটি পরিকল্পনা ঘিরে এখন এই প্রশ্নই সবচেয়ে বেশি আলোচিত।
ফিফার বিতর্কিত আর্থিক ও বাণিজ্যিক পরিকল্পনা মোকাবিলায় নজিরবিহীন ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (উয়েফা)। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে উয়েফার অন্তর্ভুক্ত ৫৫টি সদস্য দেশ।
খেলার মাঠে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন মানুষ কেবল স্কোরবোর্ড দেখে না। তারা দেখে মূল্যবোধ, দেখে কে কোন ইস্যুতে কথা বলছে আর কে চুপ থাকছে। আর খেয়াল করে, সেই নীরবতাগুলো আসলে কীসের বার্তা দিচ্ছে। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে আমার মাথায়ও এই বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছিল।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক বিদায়ের পর এবার নতুন এক কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং নিজের চেহারায় পরিবর্তন এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হতেই ইউরোপীয় ফুটবলে শুরু হয়েছে আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই, কোচিং ডাগআউটের লড়াই। মাঠে ট্রফির যুদ্ধ শেষ হলেও এখন শুরু হয়েছে জাতীয় দলগুলোর নতুন চক্রের প্রস্তুতি। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল শক্তিগুলো নিজেদের বেঞ্চে বসাতে চাইছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী কোচদের।
বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর যে দৃশ্যটি দেখা গেছে, তা ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চের মর্যাদার সঙ্গে একেবারেই বেমানান বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। স্পেনের ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের আনন্দ যখন মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই মাঠের অন্য প্রান্তে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, উত্তেজনা ও হাতাহাতি।
বিশ্বকাপের ফাইনাল। গ্যালারিতে হাজারো দর্শক। স্পেনের রাজা থেকে শুরু করে সাবেক ফুটবলার, তারকা, রাজনীতিক, অনেকেই উপস্থিত। কিন্তু যিনি সবচেয়ে বেশি থাকার কথা ছিল, তিনি ছিলেন না। তিনি লামিনে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই।
ফুটবল কখনো শুধু গোলের খেলা নয়, কখনো এটি কৌশল, ধৈর্য, মানসিক দৃঢ়তা আর সময়ের নির্মম বাস্তবতার গল্পও। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ঠিক তেমনই এক ম্যাচ হয়ে থাকবে। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নিয়েছে স্পেন।
বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই আবেগ, ইতিহাস, কৌশল আর কিংবদন্তি হওয়ার লড়াই। তবে ২০২৬ সালের ফাইনালকে অনেক বিশ্লেষক সাম্প্রতিক কয়েক দশকের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতীক্ষিত ফাইনাল বলছেন। কারণ, এখানে মুখোমুখি হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি ইউরোপ সেরা স্পেন ও বিশ্বসেরা আর্জেন্টিনা। মাঠে নির্ধারিত হবে, চার বছর পর বিশ্বের সেরা ফুটবল দল কোনটি। কিন্তু ফাইনালের বাঁশি বাজার আগেই আরও এক বিজয়ী পক্ষের নাম নিশ্চিত হয়ে গেছে। সেই বিজয়ী কোনো ফুটবলার নয়, কোনো কোচও নয়। পক্ষটি একটি ব্র্যান্ড, যার নাম অ্যাডিডাস।