বুধবার লোকসভায় বক্তব্য এবং পরে সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বিজেপির দমন-নীতি নিয়ে এন্তার অভিযোগ করেন।
ভারতে শিক্ষার্থী আন্দোলনে পুলিশি বলপ্রয়োগের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ঘটনাটির বিচার বিভাগীয় তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি করেন।
বুধবার লোকসভায় বক্তব্য এবং পরে সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যে পুলিশি অভিযান চালানো হয়েছে, তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্যমতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনেই দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করে। ফলে এই অভিযানের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই জবাবদিহি করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর অমিত শাহের মন্ত্রিসভায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। তিনি এ ঘটনার স্বাধীন তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে অমিত শাহকে লেখা এক চিঠিতে রাহুল গান্ধী জানতে চান, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন তিনি নিজে দিয়েছিলেন কি না। চিঠিতে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ পোশাক পরা যেসব ব্যক্তিকে শিক্ষার্থীদের মারধর করতে দেখা গেছে, তারা কারা এবং তাদের দায়িত্ব কে দিয়েছিল।
কেন্দ্রীয় সরকার রাহুল গান্ধীর অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে কেবল কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। গুলি বা পেলেট ব্যবহার করা হয়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে তাঁর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংসদেও এ ইস্যুতে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিরোধী সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ নিয়ে আলোচনা দাবি করলে সরকারপক্ষ রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বিষয়টি ঘিরে লোকসভায় কয়েক দফা হট্টগোলেরও সৃষ্টি হয়।
প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দেশজুড়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের পর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। তবে বিরোধী দলগুলোর দাবি, শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে দায় শেষ হয় না। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি অভিযানের জন্যও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ কারণে তারা এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ অথবা অপসারণের দাবিতে সরব হয়েছে।
সূত্র: দ্য ওয়্যার, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস, দ্য প্রিন্ট, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ইকোনমিক টাইমস, রয়টার্স।