সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার এক দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম।
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি ‘ফাঁসির মঞ্চে’ নেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার এক দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম এ মন্তব্য করেন। সভা শেষে এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে দেশে আসেন, আর যদি কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে তার দেশে ফেরার পথ তৈরি হয়, তাহলে আমরা প্রস্তুত আছি। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তাকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের ১ হাজার ৪০০ শহীদের পরিবার এবং প্রায় ৩০ হাজার আহত যোদ্ধা রাজপথে নেমে আসবে। তাদের দাবি পূরণ এবং ফাঁসির রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই আন্দোলনের প্রকৃত শক্তি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ। তাদের ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই এবারের কর্মসূচিতে শহীদ পরিবার ও আহতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ক্ষমতা দখলের জন্য নয়, রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই জুলাই আন্দোলন হয়েছিল। নাহিদ বলেন, “আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করিনি। আমরা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা বিলোপের ঘোষণা দিয়েছিলাম। এই দেশকে আর কখনো স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।”
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তার ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, “পরিবর্তন বলতে একটাই হয়েছে, তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ধরনে জনগণ যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল, তা এখনো দৃশ্যমান নয়।”
বিএনপির বিরুদ্ধেও সরাসরি অভিযোগ তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, গত দুই বছরে দলটি রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। বরং সংস্কার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছে। তার দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাস পরও প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এনসিপির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন জুলাই আন্দোলনের বিচার, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় নারীশক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতু, মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম এবং জুলাই আন্দোলনে নিহত জাবিরের মা রোকেয়া বেগম। বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের বিচার, আহতদের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।