ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের আমন্ত্রণ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
24 July 2026 12:53 am
ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য অংশগ্রহণই হতে পারে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম ভারত সফর।

ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য অংশগ্রহণই হতে পারে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম ভারত সফর। ছবি: এপি/পিটিআই

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে এই উচ্চপর্যায়ের আমন্ত্রণপত্র সম্প্রতি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে পৌঁছেছে, যা পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ব্রিকস জোটের সদস্য বা পর্যবেক্ষক দেশ না হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে এই বিশেষ আমন্ত্রণ জানানোকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময়ে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে যে স্থবিরতা ও শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সুসম্পর্ক ফিরিয়ে আনার এটি একটি বড় সুযোগ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে সরকার গঠনের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের সূচনা হয়েছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত অভিনন্দন বার্তা নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ঢাকায় এসেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান তার প্রথম বৈদেশিক সফরে চীন ও মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছিলেন। ফলে ব্রিকস সম্মেলনে তার এই সম্ভাব্য অংশগ্রহণই হতে পারে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম ভারত সফর।

কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কূটনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্র সচিব আসাদুল্লাহ আলম সিয়ামকে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে ভারতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে ঢাকা। অন্যদিকে, ভারতও তাদের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নয়াদিল্লির বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিকেই স্পষ্ট করে। সম্পর্কের এই বরফ গলানোর প্রক্রিয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের সম্পর্কে একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে থাকলেও, নতুন নেতৃত্ব সেই জটিলতা কাটিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দিতে চাইছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষক ও অভিজ্ঞ কূটনৈতিকরা মনে করছেন, এই আমন্ত্রণ নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পারস্পরিক স্বার্থ এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের এক নতুন বহিঃপ্রকাশ। ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে তা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বকে একটি নতুন গতিশীলতা দান করবে।

তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দিল্লি যাবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তা সত্ত্বেও, পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বরফ গলার এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: দ্য ওয়্যার