আলোচনাতেও দমছে না ককরোচ আন্দোলনকারীরা

প্রিয়দেশ ডেস্ক
24 July 2026 5:47 pm
দিল্লির যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে শুক্রবার বৃষ্টির মধ্যেও রেইনকোট ও ছাতা পরে প্রতিবাদী তরুণ ও শিক্ষার্থীদের স্লোগান দিতে এবং উল্লাস করতে দেখা যায়।

দিল্লির যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে শুক্রবার বৃষ্টির মধ্যেও রেইনকোট ও ছাতা পরে প্রতিবাদী তরুণ ও শিক্ষার্থীদের স্লোগান দিতে এবং উল্লাস করতে দেখা যায়।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হলেও ককরোচ আন্দোলন থামছে না। আন্দোলনের নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে।

শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার তাঁদের তিনটি প্রধান দাবি শুনেছে। তবে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। এরপর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ককরোচ আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলো হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

আন্দোলনের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া মানে আন্দোলন স্থগিত করা নয়। সরকারকে সমাধানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু দাবি পূরণ না হলে দেশজুড়ে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়া হবে। একই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আন্দোলনের অন্য নেতারাও।

এর আগে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন শেষ করেন। তাঁর অনশন ভাঙার পর সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, এটি আন্দোলনের সমাপ্তি নয়। বরং আন্দোলনকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি চলছে।

প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বেকারত্ব, সরকারি নিয়োগে অনিয়ম, প্রশাসনিক জবাবদিহির অভাব এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশাও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই আন্দোলনটি দ্রুত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় আসার পর তরুণদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও আন্দোলনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তাদের প্রতিবাদের কারণে চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনেও সংসদের কার্যক্রম একাধিকবার ব্যাহত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপে জবাবদিহির প্রশ্নের উত্তর নেই। শুধু নতুন আইন বা দ্রুত বিচার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।

আলোচনার আগে বৈঠকের স্থান নিয়েও টানাপোড়েন দেখা দেয়। আন্দোলনকারীরা সরকারের দপ্তরে নয়, নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার দাবি জানায়। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ একটি নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়। আন্দোলনকারীরা একই সঙ্গে সারা দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পালনের কর্মসূচিও অব্যাহত রেখেছে।

এরই মধ্যে দিল্লি উচ্চ আদালত সংসদ অভিমুখে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে পৃথক তদন্তের আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আদালত বলেছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। যদি আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর বিষয়ে গ্রহণযোগ্য অগ্রগতি না হয়, তাহলে রাজধানী দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে নতুন করে বিক্ষোভ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইকোনমিক টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে।