বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই আবেগ, ইতিহাস, কৌশল আর কিংবদন্তি হওয়ার লড়াই। তবে ২০২৬ সালের ফাইনালকে অনেক বিশ্লেষক সাম্প্রতিক কয়েক দশকের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতীক্ষিত ফাইনাল বলছেন। কারণ, এখানে মুখোমুখি হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি ইউরোপ সেরা স্পেন ও বিশ্বসেরা আর্জেন্টিনা। মাঠে নির্ধারিত হবে, চার বছর পর বিশ্বের সেরা ফুটবল দল কোনটি। কিন্তু ফাইনালের বাঁশি বাজার আগেই আরও এক বিজয়ী পক্ষের নাম নিশ্চিত হয়ে গেছে। সেই বিজয়ী কোনো ফুটবলার নয়, কোনো কোচও নয়। পক্ষটি একটি ব্র্যান্ড, যার নাম অ্যাডিডাস।
২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনার একটি স্টুডিওতে তোলা হয়েছিল একটি সাধারণ ছবি। উদ্দেশ্য ছিল দাতব্য ক্যালেন্ডার। ছবিতে ছিলেন বার্সেলোনার তরুণ ফুটবলার লিওনেল মেসি এবং মাত্র পাঁচ মাসের এক শিশু। সেদিন কেউ ভাবেনি, এই ছবিটি একদিন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত আলোকচিত্র হয়ে উঠবে।
গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে উচ্চমাত্রার উত্তাপ ছড়ানো বিশ্বকাপ ফাইনাল। কারণ, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। বিশ্ব ফুটবলের দুই শীর্ষ শক্তির এই দ্বৈরথকে স্বপ্নের ফাইনাল বলেই আখ্যায়িত করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গন।
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার আনন্দে মাতলো আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ বাঁশির পর মাঠে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় পরিণত হয়েছে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় দর্শকসারি থেকে আসা একটি ব্যানার হাতে তুলে ধরেন। তাতে লেখা ছিল, “লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস”।
স্পেন ও আর্জেন্টিনা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই শিরোপার অন্যতম হিসেবে আলোচনায় ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই দুই দলই উঠেছে ফাইনালে। আগামী রোববার নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা।
বান্দরবানের পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বক্সিং রিংয়ের লাইমলাইট, গল্পটা ইমন তঞ্চঙ্গ্যার। সব প্রতিকূলতা মাড়িয়ে গ্লাভস হাতে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা ২০ বছর বয়সী এক তরুণের অদম্য যাত্রার আখ্যান।
দেশের নারী ফুটবলারদের সমস্যা দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি নারী ফুটবলাররা টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে উঠে আসে তাদের বঞ্চনাগাঁথা। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের। প্রধান উপদেষ্টা বিজয়ী দলের সকলকে ডেকে সংবর্ধণা দিয়েছেন।
দারুণ ছন্দে ছিল লাতিনের সৌন্দর্যময় ফুটবল উপহার দেওয়া কলম্বিয়া। ফাইনালের দিনও সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। আর্জেন্টিনাকে তারা গোলশূন্য রাখে নির্ধারিত ৯০ মিনিট। এমনকি অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১৫ মিনিটেও গোল আসেনি। ১১২ মিনিটে গোল করে কলম্বিয়াকে স্তব্ধ করে দেন লাউতারো, আবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় আর্জেন্টিনা।