২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনার একটি স্টুডিওতে তোলা হয়েছিল একটি সাধারণ ছবি। উদ্দেশ্য ছিল দাতব্য ক্যালেন্ডার। ছবিতে ছিলেন বার্সেলোনার তরুণ ফুটবলার লিওনেল মেসি এবং মাত্র পাঁচ মাসের এক শিশু। সেদিন কেউ ভাবেনি, এই ছবিটি একদিন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত আলোকচিত্র হয়ে উঠবে।
গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে উচ্চমাত্রার উত্তাপ ছড়ানো বিশ্বকাপ ফাইনাল। কারণ, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। বিশ্ব ফুটবলের দুই শীর্ষ শক্তির এই দ্বৈরথকে স্বপ্নের ফাইনাল বলেই আখ্যায়িত করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গন।
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার আনন্দে মাতলো আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ বাঁশির পর মাঠে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় পরিণত হয়েছে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় দর্শকসারি থেকে আসা একটি ব্যানার হাতে তুলে ধরেন। তাতে লেখা ছিল, “লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস”।
স্পেন ও আর্জেন্টিনা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই শিরোপার অন্যতম হিসেবে আলোচনায় ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই দুই দলই উঠেছে ফাইনালে। আগামী রোববার নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা।
বান্দরবানের পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বক্সিং রিংয়ের লাইমলাইট, গল্পটা ইমন তঞ্চঙ্গ্যার। সব প্রতিকূলতা মাড়িয়ে গ্লাভস হাতে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা ২০ বছর বয়সী এক তরুণের অদম্য যাত্রার আখ্যান।
দেশের নারী ফুটবলারদের সমস্যা দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি নারী ফুটবলাররা টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে উঠে আসে তাদের বঞ্চনাগাঁথা। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের। প্রধান উপদেষ্টা বিজয়ী দলের সকলকে ডেকে সংবর্ধণা দিয়েছেন।
দারুণ ছন্দে ছিল লাতিনের সৌন্দর্যময় ফুটবল উপহার দেওয়া কলম্বিয়া। ফাইনালের দিনও সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। আর্জেন্টিনাকে তারা গোলশূন্য রাখে নির্ধারিত ৯০ মিনিট। এমনকি অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১৫ মিনিটেও গোল আসেনি। ১১২ মিনিটে গোল করে কলম্বিয়াকে স্তব্ধ করে দেন লাউতারো, আবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
খেলার শুরুর দিকে ছিল গতিহীন ফুটবল, পরে পাল্টে যায় বিরতির পর। মূহুর্মূহু আক্রমণের ঝড় তোলে স্পেন। ওই ঝড়ের মাঝেই ইংল্যান্ডের আশা হয়ে আসেন কোল পালমার, বদলি নেমেই দুর্দান্ত গোলে টানেন সমতা। তবে এই স্পেন তো অন্য ধাঁচে গড়া। খেই না হারিয়ে, চাপ ধরে রেখে শেষ দিকে আরেকবার জালে বল জড়ায় তারা। এতেই নিশ্চিত হয় ইউরোপ সেরার মুকুট।
বিভীষিকা পিছু ছাড়ছে না সাম্বার দেশ ব্রাজিলের। দীর্ঘদিন ধরে ‘যথাযোগ্য’ কোচ পাচ্ছে না পাঁচবার বিশ্বজয়ী ফুটবল দল সিবিএফ—ব্রাজিল। যে কারণে বারবার হেরেই চলেছে ছন্নছাড়া ব্রাজিল। এ যেন দলের ছায়া! সাবেক কিংবদন্তী ফুটলাররা সমালোচনা করে অনেকে নিজেদের খেলা দেখাই ছেড়ে দিয়েছেন। যেমন কয়েকদিন আগে রোনালদিনহো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জানান দিলেন, তিনি আর এই ব্রাজিলের খেলা দেখেন না।