নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা।
স্পেন ও আর্জেন্টিনা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই শিরোপার অন্যতম হিসেবে আলোচনায় ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই দুই দলই উঠেছে ফাইনালে। আগামী রোববার নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা।
মঙ্গলবার ডালাস স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করে স্পেন। আর বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
এই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে একটি বিশেষ মুহূর্তও হয়ে থাকছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছেন স্পেনের বিস্ময়কর তরুণ লামিন ইয়ামাল এবং আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।
বছর কয়েক আগে স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক দিয়ারিও স্পোর্ত ও ইউনিসেফের আয়োজিত একটি দাতব্য র্যাফেলে জয়ী হয়ে ইয়ামালের পরিবার একটি প্রচারণামূলক ফটোশুটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। সেই ফটোশুটে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়েছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে ইয়ামালের বাবা ছবিটি প্রকাশ করলে তা বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়। প্রায় দুই দশক পর সেই ছবির শিশু আর ফুটবল কিংবদন্তি এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামছেন।
ফাইনালের পথে যেভাবে স্পেনের যাত্রা
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও এরপর টানা ছয়টি ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছেছে স্পেন।
শেষ বত্রিশে তারা অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। এরপর শেষ ষোলোতে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের বিদায় করে।
কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় স্পেন। ওই ম্যাচেই পুরো টুর্নামেন্টে প্রথম ও একমাত্র গোল হজম করে তারা। ম্যাচজয়ী গোল করেন মিকেল মেরিনো।
সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে শুরু থেকেই দাপট দেখায় স্পেন। পুরো ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় ‘লা রোহা’।
ফাইনালে যেভাবে আর্জেন্টিনার যাত্রা
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফাইনালের আগে অপরাজিত থাকলেও তাদের পথ মোটেও সহজ ছিল না।
গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়াকে বড় ব্যবধানে হারানোর পর জর্ডানকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে তারা।
এরপর নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ বত্রিশে অতিরিক্ত সময়ে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। একই ব্যবধানে অতিরিক্ত সময়ে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে তারা। এরপর সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।
নজরে থাকবেন লামিন ইয়ামাল
এটি লামিন ইয়ামালের প্রথম বিশ্বকাপ। কিন্তু বয়স কম হলেও তাঁকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ফক্স স্পোর্টসের বিশ্বকাপের সেরা ১০০ খেলোয়াড়ের তালিকায় তিনি রয়েছেন এক নম্বরে।
গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে একটি গোল করার পর পরের ম্যাচগুলোতে গোল বা অ্যাসিস্ট না পেলেও তাঁর প্রভাব কমেনি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়লেও ধীরে ধীরে নিজের সেরা ছন্দে ফিরছেন তিনি।
সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক তারকা ল্যান্ডন ডোনোভান বলেন, “ইয়ামাল যখনই বল পায়, তখনই ফরাসি রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।“
ফাইনালেও যদি তিনি একইভাবে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চাপে রাখতে পারেন, তাহলে স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।
নজরে থাকবেন লিওনেল মেসি
এটি লিওনেল মেসির ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এই আসরেও তিনি একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আটটি গোল করে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। এছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বকাপে তাঁর মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২, যা এটিও একটি রেকর্ড।
নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা বারবার শেষ মুহূর্তে গোল করে ম্যাচ জিতেছে। আর সামনে যখন মেসির মতো একজন নেতা আছেন, তখন শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।
যেভাবে দেখবেন ফাইনাল
ম্যাচ: স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা
তারিখ: রোববার, ১৯ জুলাই
ভেন্যু: নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়াম
বাংলাদেশে বিটিভি ও টি স্পোর্টস খেলা দেখাচ্ছে।