বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের বিস্তৃর্ণ এলাকা এখন ডুবে গেছে হঠাৎ বন্যায়। পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করেছে বাংলাদেশের ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দাঁড়িয়েছে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। এখনো হাজারো মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে এসব জায়গায়।
বাংলাদেশে গণআন্দোলনের আগে পরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার যে খবর প্রচার করা হচ্ছে, সেই ঘটনা ‘অতিরঞ্জিত’ করে কেউ কেউ প্রচার করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এ কথাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
অল্প সময়ের মধ্যে অন্তবর্তী সরকারে নতুন চার উপদেষ্টাকে যুক্ত করা হলো। একইসাথে এই চার উপদেষ্টার শপথ নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দায়িত্বে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরোনোদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার পতনের পর বদলে গেছে বাংলাদেশের রাজনীতির সবকিছু। যেমনটা দেখা গেল রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের চিত্রটি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীতে ১৫ আগস্টে এখানে প্রতিবছর লাখো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীতে ঠাঁসা থাকতো। এবারের চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন। আজ ১৫ই আগস্ট এখানে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
আওয়ামী লীগের নেতা শেখ হাসিনার দুঃশাসনের দীর্ঘ আঁধার থেকে মুক্তির আলোর পথে নিয়ে যেতে পারবেন কি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গড়ে উঠা তদারকি সরকার? ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এরইমধ্যে শপথ নিয়ে দায়িত্বভার বুঝে নিয়েছে। এখন তাঁর সরকারের করণীয় এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও।
ছাত্র-জনতার অভাবনীয় গণঅভ্যূত্থানে গদিচ্যুত হয়েছেন বাংলাদেশের দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৫ আগস্ট তিনি ছাত্রদের একটি আন্দোলন থেকে গড়ে উঠা গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন। ক্ষমতায় থাকাকালে গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরার কারণে কেউ কোনো টুশব্দটি করতে না পারলেও এখন বেরিয়ে আসছে তার শাসনামলের যতো অপকর্ম আর দুঃশাসনের ইতিবৃত্ত।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলো।
চাকরিতে কোটাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তার ধরপাকড় চলছেই। নিহতদের বিষয়েও সরকারি তরফে দেওয়া হচ্ছে নানা রকম বিবৃতি। নিহতের সংখ্যা নিয়েও চলছে ধোয়াশা। সরকারি হিসাবেই সহিংসতায় এ পর্যন্ত দুইশ মানুষ নিহত হন।
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কোটা আন্দোলন ঘিরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সেখান থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, হতাহত এবং অবশেষে কারফিউ, রাজপথে সামরিক ট্যাঙ্ক নামানোর যে খবর, সেসব প্রকাশ করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারতও। এরমধ্যে পশ্চিবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ছাপা সংবাদপত্রেও স্থান পেয়েছে এই খবর। কয়েকশো মানুষ নিহত এবং সহস্রাধিক মানুষ আহত হয় গত কয়েকদিনের সহিংসতায়।