জাতীয় নির্বাচন হতে পারে ফেব্রুয়ারিতেও!

নিজস্ব প্রতিবেদক
13 June 2025 5:29 pm
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে বৈঠকটি হয়। ছবি: প্রেস উইং

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে বৈঠকটি হয়। ছবি: প্রেস উইং

সারাদেশের চোখ ছিল যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকের দিকে। সেই বৈঠক ১৩ জুন শুক্রবার অবশেষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আগামী নির্বাচনের সময় নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে বলে অনেকে মনে করছেন। বৈঠকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সব প্রস্তুতি শেষ করা গেলে ২০২৬ সালে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও (ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে) নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে।

আজ শুক্রবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা) বৈঠকটি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ৩টা) বৈঠক শেষ হয়। বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকের পর বাংলাদেশ সময় বিকেল চারটার দিকে যৌথ ব্রিফিং হয়। এতে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ।

যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, অত্যন্ত সৌহার্দ্যমূলক পরিবেশে অধ্যাপক ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার কাছে আগামী বছরের রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তাব করেন। ‌ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও মনে করেন, ওই সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভালো হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন যে তিনি আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে।

তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার এ অবস্থানকে স্বাগত জানান এবং দলের পক্ষ থেকে তাঁকে ধন্যবাদ জানান। প্রধান উপদেষ্টাও তারেক রহমানকে ফলপ্রসূ আলোচনার জন্য ধন্যবাদ জানান।

অধ্যাপক ইউনূস এখন চার দিনের সফরে লন্ডনে অবস্থান করছেন, যেখানে তারেক প্রায় দুই দশক ধরে বসবাস করছেন।

গত ৪ জুন প্রধান উপদেষ্টার যুক্তরাজ্য সফরের ঘোষণা আসার পর থেকেই এই বৈঠক নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়, যদিও এটি প্রধান উপদেষ্টার ভ্রমণসূচিতে ছিল না।

মঙ্গলবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তারেককে তার হোটেল দ্য ডরচেস্টারে একটি বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে বৈঠকটি হচ্ছে।

দলীয় সূত্রের খবর, প্রধান উপদেষ্টা সম্প্রতি বলেছেন যে নির্বাচন এপ্রিলের শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে। তারেক তাকে বলতে পারেন যে নির্বাচন আরও আগে হওয়া উচিত, কারণ রমজান মাস মার্চের মাঝামাঝি শেষ হবে এবং সেই সপ্তাহগুলো নির্বাচনের প্রচারণার জন্য আদর্শ হবে না।

বিএনপি মনে করে, এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত এবং সংস্কারগুলো অনেক আগেই বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রাজনীতি আপসের শিল্প। আপস করে উভয় পক্ষই জাতির জন্য সঠিক সময়ে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারে।’

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, এই বৈঠকের পর ভবিষ্যতে কীভাবে দেশ পরিচালিত হবে সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন মনে করেন, ইউনূস-তারেক বৈঠক বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ খুলে দিয়েছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যদি তারা সংস্কার এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান, তবে এই বৈঠক ভবিষ্যতের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।’