বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার তুলনায় হতাশাজনক হওয়ায় টুর্নামেন্টের পর থেকেই ভিনিসিয়ুসকে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক বিদায়ের পর এবার নতুন এক কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং নিজের চেহারায় পরিবর্তন এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। ব্রাজিলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ছুটিতে দেশে ফিরে তিনি চিবুকের আকৃতি আরও সুস্পষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে একটি নান্দনিক (কসমেটিক) চিকিৎসা করিয়েছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি ছবি ও ভিডিওতে ভিনিসিয়ুসের মুখের গড়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ করেন ভক্তরা। বিশেষ করে তার চোয়াল ও চিবুক আগের তুলনায় আরও ধারালো ও সংজ্ঞায়িত মনে হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক জল্পনা। পরে ব্রাজিলের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, গোইয়ানিয়ার একটি বিশেষায়িত ক্লিনিকে তিনি ‘চিন হারমোনাইজেশন’ নামে পরিচিত একটি আধুনিক নান্দনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

প্রথম দেখায় অনেকে ভিনিকে চিনতেই পারছেন না!
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, এটি প্রচলিত অর্থে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার নয়। আধুনিক কসমেটিক মেডিসিনে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে চিবুক, চোয়াল ও মুখের সামগ্রিক ভারসাম্য উন্নত করার চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে ফুটবলার, অভিনেতা ও অন্যান্য তারকাদের মধ্যে এই ধরনের চিকিৎসার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের ভাষায়, এর লক্ষ্য সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়, বরং মুখের বিভিন্ন অংশের অনুপাতকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা।
ভিনিসিয়ুসের চিকিৎসা নিয়ে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্লিনিকের কর্মীদের ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রকাশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকি চিকিৎসক ড. আলেসান্দ্রো আলারকাঁও বিশেষভাবে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি থেকে ব্রাজিলে যান বলেও জানানো হয়েছে।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার তুলনায় হতাশাজনক হওয়ায় টুর্নামেন্টের পর থেকেই ভিনিসিয়ুসকে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষ ষোলোতেই নরওয়ের কাছে বিদায় নেয়। যদিও ব্যক্তিগতভাবে ভিনিসিয়ুস দলের অন্যতম উজ্জ্বল পারফরমার ছিলেন, তবুও ব্রাজিলের ব্যর্থতার হতাশা তার ওপরও এসে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে ফুটবলারদের পরিচয় শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড, ফ্যাশন, জীবনধারা এবং শারীরিক উপস্থিতিও তাদের জনপ্রিয়তা ও বাজারমূল্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক খেলোয়াড়ই এখন পেশাদার ক্রীড়াবিদের পাশাপাশি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবেও নিজেদের উপস্থাপন করতে সচেষ্ট। সেই বাস্তবতায় ভিনিসিয়ুসের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার নতুন চেহারার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। অনেক ভক্তের মন্তব্য, প্রথম দেখায় তাকে চিনতেই কষ্ট হয়েছে। তবে অধিকাংশ পর্যবেক্ষকের মতে, একজন ব্যক্তির নিজের শরীর ও চেহারা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তার ব্যক্তিগত বিষয় এবং সেটিকে সে দৃষ্টিতেই দেখা উচিত।
বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে এখন নতুন মৌসুমের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নতুন কোচের অধীনে রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে যোগ দেওয়ার আগে তার এই নতুন লুক বিশ্ব ফুটবলে আরেকটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভক্তদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকবে মাঠের পারফরম্যান্স, কারণ ফুটবলে শেষ কথা বলে খেলাটাই।
সূত্র: মার্কা, গোল ডটকম, হিন্দুস্তান টাইমস, টকস্পোর্ট, সকার লাডুমা।