আওয়ামী লীগের নেতা শেখ হাসিনার দুঃশাসনের দীর্ঘ আঁধার থেকে মুক্তির আলোর পথে নিয়ে যেতে পারবেন কি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গড়ে উঠা তদারকি সরকার? ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এরইমধ্যে শপথ নিয়ে দায়িত্বভার বুঝে নিয়েছে। এখন তাঁর সরকারের করণীয় এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও।
ছাত্র-জনতার অভাবনীয় গণঅভ্যূত্থানে গদিচ্যুত হয়েছেন বাংলাদেশের দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৫ আগস্ট তিনি ছাত্রদের একটি আন্দোলন থেকে গড়ে উঠা গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন। ক্ষমতায় থাকাকালে গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরার কারণে কেউ কোনো টুশব্দটি করতে না পারলেও এখন বেরিয়ে আসছে তার শাসনামলের যতো অপকর্ম আর দুঃশাসনের ইতিবৃত্ত।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলো।
চাকরিতে কোটাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তার ধরপাকড় চলছেই। নিহতদের বিষয়েও সরকারি তরফে দেওয়া হচ্ছে নানা রকম বিবৃতি। নিহতের সংখ্যা নিয়েও চলছে ধোয়াশা। সরকারি হিসাবেই সহিংসতায় এ পর্যন্ত দুইশ মানুষ নিহত হন।
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কোটা আন্দোলন ঘিরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সেখান থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, হতাহত এবং অবশেষে কারফিউ, রাজপথে সামরিক ট্যাঙ্ক নামানোর যে খবর, সেসব প্রকাশ করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারতও। এরমধ্যে পশ্চিবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ছাপা সংবাদপত্রেও স্থান পেয়েছে এই খবর। কয়েকশো মানুষ নিহত এবং সহস্রাধিক মানুষ আহত হয় গত কয়েকদিনের সহিংসতায়।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সাথে সহিংসতায় একদিনেই (মঙ্গলবার) সারা দেশে ছয় জনের নিহত হওয়ার খবর মিলল। এ পরিস্থিতিতে সরকার দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
মঙ্গলবার চলমান আন্দোলনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও পথে নামেন। এ সময় আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশের সাথে ছাত্রলীগও মাঠে নামে। এ সময় সংঘর্ষে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) এক শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থীর নাম আবু সাঈদ। তিনি বেরোবির ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফর করে এলেন গত বুধবার ১০ জুলাই। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সফর শেষে বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফেরার কথা থাকলেও সরকারপ্রধান বুধবার রাতেই ফিরে আসেন। বহুল আলোচিত সেই সফরের প্রাপ্তি কতটা হয়েছে সেটি নিয়ে এখন চলছে নানা আলোচনা, বিচার বিশ্লেষণ। চীন সফরে যাবার কিছুদিন আগ থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং কর্মকর্তারা ধারণা দিয়েছিলেন, এই সফর হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলন। সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনটি প্রতিদিনই বেগবান হচ্ছে। সরকারও বিষয়টি নিয়ে পড়েছে বেকায়দায়। সরকারের অন্দরে চলছে দফায় দফায় বৈঠক। সমাধানের কোনো পথ বের করতেই রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠক। গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই সরকারকে ধারনা দিয়েছে, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের আন্দোলনটি অন্যদিকে মোড় নিতে পারে।