পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কেউ একক কর্তৃত্ব কায়েম করতে পারবে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়ার ফলে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও মানুষ তার অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে হচ্ছে। কারণ একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীনদের ফ্যাসিবাদী করে তোলে।
সারাদেশের চোখ ছিল যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকের দিকে। সেই বৈঠক ১৩ জুন শুক্রবার অবশেষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আগামী নির্বাচনের সময় নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে বলে অনেকে মনে করছেন।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে যে ‘গণহত্যা’ হয়েছে সেটির বিচার কাজ শুরু হয়েছে। সেই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান অভিযুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের সংস্কার কমিশনগুলো কাজ করে চলেছে। তারা ইতিমধ্যে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। এখন প্রতিবেদনের প্রধান প্রধান সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের পালা। বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রের নানা খাতে গেড়ে বসা নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূ্র করার জন্য এই সুপারিশগুলো যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যাবে ততই মঙ্গল। না হলে আগের ধংসের ধারাতেই রয়ে যাবে দেশ।
বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকার গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা ন্যায়বিচার, সমতা, স্বাধীনতা এবং মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক স্ট্যটাসে দলীয় সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন—
গত কয়েক দিন ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নিয়ে আবারো বিতর্ক চলছে। এরইমধ্যে বুধবার ঢাকায় বিএনপির আয়োজনে তারুণ্যের সমাবেশে বিএনপি নেতা তারেক রহমানও বলেছেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মনে হয় এরই ভেতরে টালবাহানা শুরু হয়েছে বা চলছে। ডিসেম্বরেই ভোট হতে হবে।’’
অন্তর্বর্তী সরকারের করা ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রত্যাহারের দাবিতে সচিবালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় সোমবার দিনভর বিক্ষোভের পর মঙ্গলবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পথ রাজনৈতিক দলগুলোই নির্ধারণ করবে। এটা অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে যে তারা কীভাবে অগ্রসর হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে কীভাবে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া তৈরি হয়, সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন।
দেশের রাজনীতি হঠাৎ উত্তাপ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে ইন্টেরিম সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যখন তার পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন, সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিষয়টি টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয় মূহুর্তেই। ড. ইউনূসের সেই পদত্যাগের ভাবনা নিয়ে তৈরি হওয়া সংকটের আপাত নিরসন হলো।