আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়, দলীয় নিষেধাজ্ঞা ও তৃণমূলের কোণঠাসা অবস্থা, সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে চরম অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ। এমন এক পটভূমিতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দলের উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ অঙ্গনে তৈরি করেছে নতুন কৌতুহল।
ভারতের গণমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারকে দীর্ঘ টেলিসাক্ষাৎকার দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, তারেক রহমান, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি।
দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশও কি যুক্ত হতে যাচ্ছে? বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাবের কথা প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনাকে ঘিরে একটি সংবাদ সম্মেলন সেই প্রক্রিয়ায় নতুন করে ধাক্কা দিয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশের তরুণরা এমন এক অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছিল, যা অনেকের কাছেই ছিল অকল্পনীয়। বিশ্বের দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রীদের একজন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে সামরিক হেলিকপ্টারে করে প্রতিবেশী ভারতে চলে যেতে হয়েছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে দিল্লির দ্রুত সিদ্ধান্ত দরকার। একই সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফর নিয়েও আলোচনা চলছে।
ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বাংলাদেশ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্য কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন।
বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে এমন নজির আগে দেখা যায়নি। একসময় দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষে থাকা একজন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক এখন বিদেশের একটি ফৌজদারি মামলার আসামি হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে এই উচ্চপর্যায়ের আমন্ত্রণপত্র সম্প্রতি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে পৌঁছেছে, যা পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এখন বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একাধিকবার জানিয়েছে, তার ফেরার পথে কোনো আইনগত বাধা নেই।