দেশের ডিজিটাল মিডিয়ার শীর্ষ সংগঠন অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স এবং বাংলাদেশ-চায়না আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হলো। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীতে সিএমজি বাংলার গুলশান অফিসে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়।
অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট হাসান শরীফ এবং বাংলাদেশ-চায়না আপন মিডিয়া ক্লাবের প্রতিনিধি অলিভিয়া ছু নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে স্মারকে সই করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিএমজির বাংলা বিভাগে কর্মরত সাংবাদিক এবং অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের নির্বাহী সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের সব সদস্যকে স্বাগত জানিয়ে সিএমজির বাংলা বিভাগের পরিচালক ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী বলেন, বর্তমান এ প্রযুক্তির যুগে অনলাইন সাংবাদিকতার গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই আপনাদের সঙ্গে এ সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। এর মাধ্যমে আমরা প্রযুক্তি ও সাংবাদিকতার জ্ঞান আদান-প্রদান করব।
সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট হাসান শরীফ অনুষ্ঠানে বলেন, আজকের এই সমঝোতা স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুপক্ষ উপকৃত হবে। বিশেষ করে চীনের পর্যটন খাত, স্বাস্থ্য, শিক্ষা নানা বিষয়ে কাজ করার সুযোগ আছে। আমি এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে সিএমজির বাংলা বিভাগের পরিচালক ইউ কুয়াং ইউয়ে বলেন, “বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে অনলাইন সাংবাদিকতার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং আমরা পারস্পরিক প্রযুক্তি ও সাংবাদিকতা জ্ঞানের আদান-প্রদান করতে পারবো।”
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের সভাপতি হাসান শরীফ বলেন, “আজকের এই সমঝোতা দুই দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনবে। বিশেষ করে চীনের পর্যটন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে একসাথে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। আমি এমন যৌথ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।”
সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহেল প্রস্তাব দেন, “বাংলাদেশের অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং মেধাবী সাংবাদিকদের উৎসাহ দিতে দ্বিপাক্ষিকভাবে অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করা যেতে পারে।”
সভায় সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লুৎফর রহমান হিমেল বলেন, একজন ব্যক্তির সঙ্গে আরেকজন ব্যক্তির সম্পর্ক গড়ে উঠলে যেমন দ্বিগুন শক্তি সৃষ্টি হয়, সেখানে একটি সংগঠনের সঙ্গে আরেকটি সংগঠনের যৌথ প্রয়াস বহুগুনে শক্তিশালী উদ্যোগে পরিণত হয়। অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স এবং বাংলাদেশ-চায়না আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ নতুন এক দুয়ার উন্মোচন করবে।
সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ মাহমুদ বলেন, “চীনকে জানার রয়েছে অনেক কিছু। চীনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ে কাজ করা সম্ভব। চীনে রয়েছে অসংখ্য কনটেন্ট, যেগুলো নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার বিশাল সুযোগ আছে।” পলাশ আশা প্রকাশ করে আরো বলেন, “ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও উন্নয়নের পথে আমরা একসাথে হাঁটতে চাই।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা আরও আলোচনা করেন কিভাবে তথ্য বিনিময়, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ডের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের সাংবাদিকদের মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতা গড়ে তোলা যায়। তাদের মতে, এ চুক্তি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সাংবাদিকতা পেশাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করবে।